ভালো আছি
চার দেওয়ালের মাঝখানে,
খাট পেতেছি এক কোনে।
রোদ লাগে না, পানি পড়ে না,
ভালোই আছি বেশ।
মাথার ওপর আরেক পড়শী, নীচেও আছে এক।
আমি থাকি মাঝখানে, নীতিও আমার এক।
সাতে নেই পাঁচেও নেই, বেতন পাই অল্প।
বাজার করি হিসেব করে,চলতে সামান্য হয় কষ্ট।
ধনীদের টাকা মেলা, চোর ঠেকাতে ব্যাস্ত।
গরীবের কামায় কম, অনাহারে অভ্যস্ত।
চাকরি করি দুর শহরে,সরকারি দপ্তরে।
স্বপ্ন আমার একদিন,নীজের গাড়ি চাপবো।
চাপাচাপি পরে হবে, আছে কি সামর্থ্য?
ঘুস আমি খাই না,প্রমোশনও পাই না,
অফিস যায় বাসে চেপে, হারাম তো আর কামায় না।
তাই তো, ভালোই আছি বেশ।
ভালো থাকার অর্থ চাই,
ধনী বলে আরো যদি বেশি পাই।
গরীব বলে তিনবেলা অন্নটাই সাথে যদি কিছু পাই।
আমি বলি ভুলে ভরা, ভালো থাকার সঙ্গাটাই।
আমরা নিজের রিজিক মাপি, অন্যের দাঁড়িপাল্লায়।
ভুরি ভুরি আছে যার,
হিসাব টাও বেশি তার।
আমি থাকি মাঝখানে,
না বেশি না কমে।
ধনীর বেশি চিন্তা তাই,
রোজ তার টাক বাড়ে।
আমার মাথায় ঘন কেশ,
এই তো ভালোই আছি বেশ।
ব্যাখ্যা: মানুষ নিজের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট না, অন্যের তুলনায় নিজের অবস্থান হিসাব করে সবাই দুঃখি। কিন্তু সবার দিন ঠিকই পার হয়ে যাচ্ছে। অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করার মত এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা মানুষকে ভালো থাকার মৌলিক সঙ্গা থেকে দুরে সরিয়ে দিয়েছে।কবির বেতন অল্প তাই বাজারে টা হিসেব করে করলেও তিনি অনাহারে থাকেন না, আবার তিনি ধনীও না তাই চোরের ভয়ে নিজে সমাজবিচ্ছিন্ন করেও রাখেন না।কবির শখ তিনি একদিন নিজের গাড়ি চড়বেন, কিন্তু সরকারি কর্মচারীর বেতনে গাড়ি কেনার সামর্থ্য ওনার নেই, তিনি ঘুস খান না, এই জন্য তার প্রোমোশনও হয়না, তাতে কি? তিনি তো হারাম কামায় করেন না। তাই পরকালের হিসাবের ভয় নেই, তাই ভালই আছেন তিনি।সমাজে ধনী গরিব সবাই চাহিদার তুলনায় বেশি চায় বিধায় কেউই ভালো নেই। প্রত্যেকের জন্য রিজিক নির্ধারণ করে দেওয়া আছে, তাই অন্যের রিজিকের সাথে নিজের রিজিক মেপে দুঃখি হওয়া উচিত না। কবির বেশিও নাই কমও নাই, তার যা আছে তাই নিয়ে তিনি খুশি থাকেন।কবিতার শেষ অংশে ধনীদের নিয়ে মজার ছলে বলেছেন টাকার পিছনে ছুটতে তারা এতই মগ্ন যে, নিজের দিকে খেয়াল দেওয়ার সময়ই পান না, টাকার চিন্তায় চুল পড়ে দিন দিন টাক বাড়ে তাদের, এদিকে মাথায় ঘন চুল নিয়ে কবি কিন্তু ভালোই আছেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মুল্যাবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ.